ব্যবহারের শর্ত
সর্বশেষ আপডেট: ২০২৬-০৬-০৭
১. শর্ত মেনে নেওয়া
- অ্যাকাউন্ট খুললে বা Zestover ব্যবহার করলে আপনি এই শর্তগুলো মেনে নিচ্ছেন।
- কোনো শর্তে রাজি না হলে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বন্ধ করুন।
- দরকার হলে আমরা শর্ত বদলাতে পারি; এই পেজে যা আছে সেটাই সবসময় চলতি নিয়ম।
২. কে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে
- সাইন আপের সময় সঠিক ও সত্য তথ্য দিতে হবে।
- একজন মানুষ প্রতি ভূমিকায় একটি অ্যাকাউন্ট রাখতে পারবেন। ডুপ্লিকেট বা ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা নিষেধ, এতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হতে পারে।
- সাইন আপের সময় দেওয়া দেশ আর বদলানো যায় না। এই দেশ অনুযায়ী আপনার কারেন্সি, কোন প্রোডাক্ট দেখবেন এবং লিমিট ঠিক হয়।
৩. অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ও আচরণ
- পাসওয়ার্ড ও লগইনের তথ্য কাউকে দেবেন না; আপনার অ্যাকাউন্টে যা হয় তার দায় আপনার।
- বেআইনি কাজ, প্রতারণা, ধোঁকা বা খারাপ উদ্দেশ্যে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যাবে না।
- মার্চেন্ট, রিসেলার ও কর্মীদের সাথে ভদ্রভাবে কথা বলুন; অ্যাপের চ্যাট শুধু কাজের কথার জন্য।
৪. রিসেলারের নিয়ম
- রিসেলারকে কোনো মাল রাখতে হয় না — প্রতিটি প্রোডাক্ট মার্চেন্ট দেন এবং পাঠান।
- Reseller Price = মার্চেন্টের পাইকারি দাম + প্ল্যাটফর্ম ফি। এর উপরে আপনি নিজের বিক্রির দাম ঠিক করবেন, বাড়তি টাকাটাই আপনার কমিশন।
- একটি কার্টে একবারে শুধু একজন মার্চেন্টের প্রোডাক্ট রাখা যাবে।
- Cash on Delivery (COD): অর্ডার Delivered বা Returned না হওয়া পর্যন্ত প্ল্যাটফর্ম ফি ও আপনার কমিশন ব্যালেন্সে হোল্ড থাকে। COD পার্সেল ফেরত এলে ডেলিভারি চার্জ কাটা হয়।
- Balance Pay: অর্ডারের সময় পুরো Reseller Price কেটে নেওয়া হয়, বাড়তি কিছু হোল্ড হয় না।
- কাস্টমারের ঠিকানা ও ফোন নম্বর সঠিক দিতে হবে; ভুল তথ্যের কারণে ডেলিভারি না হলে দায় আপনার।
৫. মার্চেন্টের নিয়ম
- স্টক, প্যাকিং, প্রোডাক্টের মান এবং সময়মতো পাঠানোর দায় মার্চেন্টের।
- রিসেলাররা প্রোডাক্ট দেখার আগে মার্চেন্টকে ন্যূনতম ডিপোজিট রাখতে হবে। এই পরিমাণ প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা এবং Merchant Wallet-এ আপনার নিজের কারেন্সিতে দেখানো থাকে।
- প্রতিটি প্রোডাক্টে সঠিক নাম, বর্ণনা, আসল ছবি, সঠিক পাইকারি দাম এবং প্রযোজ্য রং ও সাইজ দিতে হবে।
- শুধু অনুমোদিত মার্চেন্টরা প্রোডাক্ট দিতে পারবেন; অ্যাডমিন মার্চেন্টের হয়ে প্রোডাক্ট তৈরি করে না।
- রিসেলারের অর্ডার দ্রুত গ্রহণ বা বাতিল করতে হবে। নিশ্চিত অর্ডারে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মার্চেন্টের ব্যালেন্স হোল্ড থাকে।
- এক্সচেঞ্জ অনুরোধ ও অভিযোগের উত্তর অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে দিতে হবে।
- নকল প্রোডাক্ট, ভুয়া তালিকা, ভুল তথ্য বা ভুল প্রোডাক্ট পাঠালে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হতে পারে এবং হোল্ড থাকা টাকা কেটে নেওয়া হতে পারে।
৬. অর্ডার ও দাম
- দাম স্টকের উপর নির্ভর করে এবং আগে না জানিয়ে বদলাতে পারে।
- দামের ভুল বা প্রতারণার সন্দেহ হলে আমরা অর্ডার বাতিল করতে পারি।
- রিসেলারের লাভ যুক্তিসঙ্গত ও আইনের মধ্যে রাখতে হবে।
- অর্ডারের ধাপগুলো: Pending → Packaging → In Courier → Delivered → (Partial Return / Returned / Cancelled)। Exchange আলাদা একটি নতুন অর্ডার হিসেবে চলে।
- অর্ডারের অবস্থা শুধু সিস্টেম, মার্চেন্ট বা অনুমোদিত কর্মীরা বদলাতে পারেন। অন্য কোনো উপায়ে বদলানোর চেষ্টা আটকানো হয় এবং রেকর্ড রাখা হয়।
৭. ডেলিভারির সময় ও চার্জ
- ডেলিভারি চার্জ: ঢাকার ভিতরে ৬০ টাকা, ঢাকার বাইরে ১২০ টাকা।
- মার্চেন্ট পার্সেল পাঠানোর পর থেকে ডেলিভারির সময় গোনা শুরু হয়, অর্ডার দেওয়ার সময় থেকে নয়।
- সাধারণত মার্চেন্টের মূল শহরের ভিতরে ২–৩ কর্মদিবস এবং দেশের অন্য জায়গায় ৩–৭ কর্মদিবস লাগে।
- অন্য দেশে অর্ডার (যেখানে চালু আছে) পৌঁছাতে ৭–১৫ কর্মদিবস লাগতে পারে।
- কুরিয়ারের সমস্যা, আবহাওয়া, ছুটি বা কাস্টমারের ভুল তথ্যের কারণে দেরি হতে পারে; আপডেট ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে।
৮. ওয়ালেট ও ব্যালেন্স
- প্রতিটি অ্যাকাউন্টে একটি Local Balance ও একটি USD Balance থাকে, দুটোই Wallet-এ দেখা যায়।
- USD ওয়ালেট দুই ভাগে: Available ও On Hold। P2P বিজ্ঞাপন, চলমান ট্রেড, মার্চেন্ট সিকিউরিটি ডিপোজিট বা অপেক্ষমাণ উইথড্রর জন্য টাকা On Hold-এ যায়।
- Local ও USD ব্যালেন্স আলাদা থাকে। রিসেলার নিজে রূপান্তর করতে পারেন না; তাঁর Local ব্যালেন্স শুধু দেশের জন্য নির্ধারিত দিন ও রেটে সাপ্তাহিক রূপান্তরে USD-তে যায়। মার্চেন্ট ওয়ালেট থেকে সরাসরি Local ও USD-এর মধ্যে এক্সচেঞ্জ করতে পারেন। রূপান্তর সম্পন্ন হলে আর ফেরানো যায় না।
- Bangla QR ডিপোজিট: সঠিক পরিমাণ ও পাঠানোর অ্যাকাউন্টের শেষ ৪ সংখ্যা মিললে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত সাথে সাথে যোগ হয়; ১,০০০ টাকার বেশি হলে টিম যাচাই করে যোগ করে। ড্যাশবোর্ডে দেখানো সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা মানতে হবে।
- ডিপোজিট, উইথড্র, হোল্ড ও কমিশন ড্যাশবোর্ডে দেখানো লিমিট ও সময় অনুযায়ী হয়।
- হাতে ব্যালেন্স বাড়ানো বা কমানো শুধু প্ল্যাটফর্মের মালিক (Owner) করতে পারেন।
- প্ল্যাটফর্মের কাজের সাথে সম্পর্কহীন টাকা ওয়ালেটে রাখা বা পাঠানো যাবে না।
৯. P2P ট্রেড ও Escrow
- P2P ট্রেড শুধু একই দেশ ও একই কারেন্সির ব্যবহারকারীদের মধ্যে হয়।
- বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট থেকে P2P-তে শুধু USD বিক্রি (Sell) করা যায়; P2P-তে USD কেনা (Buy) বা P2P ডিপোজিট করা যায় না।
- ট্রেড শুরু হলেই বিক্রেতার USD নিজে থেকে escrow-তে আটকে রাখা হয়।
- অপর পক্ষকে দেখানো সময়ের মধ্যে অনুরোধ গ্রহণ বা বাতিল করতে হবে; না করলে অনুরোধ নিজে থেকে বাতিল হয়।
- ট্রেড গ্রহণ হওয়ার পরেই পেমেন্টের তথ্য দেখানো হয়।
- ক্রেতাকে সময় শেষ হওয়ার আগে সঠিক পরিমাণ টাকা পাঠিয়ে আসল প্রমাণসহ "paid" চাপতে হবে।
- বিক্রেতা টাকা পেয়েছেন নিশ্চিত হয়েই release করবেন। টাকা না পেয়ে release করলে ঝুঁকি পুরোপুরি বিক্রেতার।
- প্ল্যাটফর্মের বাইরে লেনদেন, ট্রেডের মাঝে পরিমাণ বদলানো, বা টাকা দেওয়ার পর বাতিল করতে চাপ দেওয়া একদম নিষেধ।
- বিজ্ঞাপনে চলমান ট্রেড বা অপেক্ষমাণ অনুরোধ থাকলে বিজ্ঞাপন বদলানো যাবে না।
১০. P2P মার্চেন্ট
- P2P মার্চেন্ট হতে আবেদন করতে হয় এবং একটি সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়, যা মার্চেন্ট থাকা পর্যন্ত হোল্ড থাকে।
- মার্চেন্টকে সঠিক পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে, নির্ধারিত সময়ে উত্তর দিতে হবে এবং ভালো সফলতার হার রাখতে হবে।
- বারবার বাতিল, প্রতারণার চিহ্ন বা অভিযোগে হারলে মার্চেন্ট পদ বন্ধ হতে পারে। প্রতারিত ব্যবহারকারীকে ক্ষতিপূরণ দিতে ডিপোজিট ব্যবহার হতে পারে।
১১. অভিযোগ ও বিরোধ
- ট্রেড রুমে দেখানো সময়ের মধ্যে যেকোনো পক্ষ অভিযোগ (appeal) করতে পারবেন।
- প্রমাণ আসল হতে হবে, এডিট করা যাবে না। ভুয়া প্রমাণ দিলে অ্যাকাউন্ট চিরতরে বন্ধ হবে।
- চলমান অভিযোগের প্রমাণ মোছা যায় না।
- রিভিউ টিমের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং দুই পক্ষকেই মানতে হবে।
১২. ক্রিপ্টো (USDT BEP-20)
- শুধু BNB Smart Chain (BEP-20)-এর USDT চলে। অন্য টোকেন বা নেটওয়ার্কে পাঠালে টাকা আর ফেরত পাওয়া যায় না।
- প্রতিটি ডিপোজিটের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ও শেষ সময় থাকে; সময় শেষের আগে ঠিক ওই পরিমাণ পাঠান।
- ব্লকচেইনে নিশ্চিত হওয়ার পরেই ডিপোজিট যোগ হয়।
- উইথড্রর একটি ন্যূনতম পরিমাণ ও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক ফি আছে, এবং পাঠানোর আগে রিভিউ হয়।
- একবার পাঠানো হলে ব্লকচেইনের লেনদেন আর ফেরানো যায় না।
১৩. নিরাপত্তা চেক
- প্রতিটি উইথড্রর আগে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা চেক হয় — মাইনাস ব্যালেন্স, সন্দেহজনক কাজ ও VPN চেকসহ।
- আটকে যাওয়া উইথড্র সমস্যা ঠিক হওয়ার পরেই এগোবে।
- এই চেকগুলো সার্ভারে হয়; ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা রেকর্ড করা হয়।
১৪. নিষিদ্ধ কাজ ও শাস্তি
- নিষেধ: একই ভূমিকায় একাধিক অ্যাকাউন্ট, ভুয়া পেমেন্ট প্রমাণ, টাকা ফেরতের অপব্যবহার এবং যেকোনো ধরনের মানি লন্ডারিং।
- আরও নিষেধ: বট দিয়ে তথ্য তোলা, API-এর অপব্যবহার এবং প্ল্যাটফর্মের ভিতরের ফাংশন সরাসরি চালানোর চেষ্টা।
- নিয়ম ভাঙলে ব্যালেন্স আটকে যেতে পারে, ডিপোজিট কেটে নেওয়া হতে পারে এবং অ্যাকাউন্ট চিরতরে বন্ধ হতে পারে।
- বন্ধ হওয়া ব্যবহারকারী অফিসিয়াল ফর্মে একবার আপিল করতে পারবেন।
১৫. ডিজিটাল প্রোডাক্ট
- ডিজিটাল প্রোডাক্ট দেন অনুমোদিত ডিজিটাল মার্চেন্টরা, এবং অর্ডার ও হিসাব হয় USD-তে।
- রিসেলার ডিজিটাল অর্ডার দিলে টাকা USD ব্যালেন্স থেকে escrow-তে হোল্ড থাকে যতক্ষণ না অর্ডার শেষ হয়।
- মার্চেন্টকে নির্ধারিত সময়ে অর্ডার গ্রহণ বা বাতিল করতে হবে। সময়মতো উত্তর না দিলে রিসেলার নিজে থেকেই পুরো টাকা ফেরত পাবেন।
- ডেলিভারির পর রিসেলারকে পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। শেষ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত বা অভিযোগ না করলে টাকা নিজে থেকে মার্চেন্টের কাছে চলে যায়।
- কোনো সমস্যা থাকলে অর্ডারের ভিতরে দেখানো সময়ের মধ্যে অভিযোগ করতে হবে; তারপর হিসাব চূড়ান্ত।
- পাওয়া ডিজিটাল জিনিস মার্চেন্টের অনুমতির বাইরে শেয়ার করা বা প্ল্যাটফর্মের বাইরে বিক্রি করা নিষেধ।
১৬. মাইক্রো টাস্ক ও সার্ভে
- টাস্ক চালু হলে বাজেট পোস্টকারীর ব্যালেন্স থেকে হোল্ড হয়, যাতে অনুমোদিত কর্মীরা সবসময় টাকা পান।
- টাস্ক নির্দিষ্ট দেশের জন্য হয় এবং দৈনিক ও মোট জমার সীমা থাকতে পারে; নির্দেশনা মেনে প্রমাণ দিলেই শুধু গণ্য হবে।
- জমা দেওয়া প্রমাণ টাস্কের শর্ত দেখে রিভিউ হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিভিউ না হলে জমা নিজে থেকে অনুমোদিত হয়ে টাকা পাবেন।
- অনুমোদিত টাকা কর্মীর ব্যালেন্সে যোগ হয়; বাতিল হওয়া জমার টাকা দেওয়া হয় না।
- ভুয়া, পুরোনো বা AI দিয়ে বানানো প্রমাণ বাতিল হবে এবং অ্যাকাউন্ট বন্ধ হতে পারে।
১৭. Global Affiliates
- অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট, লিংক, কমিশন ও পেমেন্ট অফিসিয়াল অ্যাফিলিয়েট পোর্টালে, সেই প্রোগ্রামের নিজস্ব শর্তে চলে।
- শুধু সৎ প্রচার চলবে — স্প্যাম, ভুয়া রিভিউ, ভুল দাবি বা কমিশনের জন্য নিজে কেনা নিষেধ।
- শুধু আসল ও যোগ্য বিক্রিতে কমিশন হয়; ফেরত বা প্রতারণামূলক অর্ডারে কমিশন নেই।
১৮. দায়ের সীমা
- প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের কারণে হওয়া পরোক্ষ ক্ষতির দায় Zestover নেবে না।
- রক্ষণাবেক্ষণ বা কারিগরি কারণে সেবা কিছুক্ষণ বন্ধ থাকতে পারে; সবসময় চালু থাকা বা নির্দিষ্ট লাভের নিশ্চয়তা নেই।
১৯. প্রশ্ন থাকলে
- টাকা ফেরতের নিয়ম রিফান্ড পলিসি পেজে এবং তথ্যের নিয়ম প্রাইভেসি পলিসি পেজে আছে।
- অন্য কিছু জানতে যোগাযোগ পেজের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করুন।